• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • Govt. SL. No:-352

Advertise your products here

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে সাংবাদিক পরিচয়ে সরকারি প্রকল্পের কাজ ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ 


ডে-নাইট-নিউজ ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:১৬ পিএম;
কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে সাংবাদিক পরিচয়ে সরকারি প্রকল্পের কাজ ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ 
কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে সাংবাদিক পরিচয়ে সরকারি প্রকল্পের কাজ ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে সাংবাদিক পরিচয়ে ঘুরাঘুরি করে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তা পূণনির্মাণের কাজ ভাগিয়ে নিয়েছে মোহাম্মদ এরশাদ রানা নামের এক ব্যক্তি। সে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ প্রচার সম্পাদক এবং খেঁয়াইশ গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে। এছাড়াও সে নালঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী।  উল্লেখিত রাস্তাটিতে মাত্র  ১০/১২ হাজার টাকার মাটি ফেলে প্রকল্পের পুরো ২ লাখ টাকা উত্তোলনে ব্যর্থ হয়ে সে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর অসদাচরণের লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরসহ পুরো  এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।  .

 .

জানা গেছে, আওয়ামী শাসনামলে সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের আশির্বাদে নালঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী পদে চাকরি ভাগিয়ে নেয় শ্রীপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ প্রচার সম্পাদক ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ এরশাদ রানা। তবে দিনে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দেয়া এরশাদ রানা সারাদিন পড়ে থাকে উপজেলা পরিষদ এলাকায়। প্রতিদিন সে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা - কর্মচারীদের টেবিলে টেবিলে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকে অনেকের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। তার সখ্যতা বেশী ছিল চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের সাথে। তাদের সাথে যোগসাজশ ও বিভিন্ন শলাপরামর্শ করে ভাগিয়ে নেয় কয়েকটি প্রকঝল্পের কাজ।.

 .

 .

অতি দরিদ্র ঘরের সন্তান হয়েও আওয়ামীলীগের ১৭ বছরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে স্কুলের নৈশ প্রহরীর চাকুরী সহ বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে  এরশাদ রানা করেছেন পাকা বাড়ি। ২০২৪ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর এরশাদ রানা কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও ফিরে আসে সাংবাদিক পরিচয়ে। আগের মতোই সারাদিন ঘুরঘুর করে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে। সর্বশেষ বিদায়ী ইউএনও জামাল হোসেন এর সময়ে ভাগিয়ে নেয় নিজের বাড়ির সড়ক উন্নয়নে ২ লাখ টাকার কাজ। শ্রীপুর ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলমকে প্রকল্প সভাপতি করে দেয়া বরাদ্ধের ১ লাখ টাকা উঠিয়ে নেয় এরশাদ রানা। বাকি ১ লাখ টাকা উত্তোলন করতে গেলে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সরেজমিন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে কাজের বাস্তব চিত্রে ৯-১০ শতাংশ কাজের বাস্তবায়ন দেখে বিল দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এরশাদ রানা কুমিল্লা জেলা প্রশাসক বরাবরে পিআইও’র বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। সরেজমিন পরিদর্শন করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়। ১১১ ফুট দৈর্ঘ্য দেখানো সড়ক সংস্কার কাজে এরশাদ রানা ৩০-৩৫ ফুট জায়গায় আনুমানিক ১০-১৫ ট্রাক্টর মাটি ফেলে। এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি শাহ আলমের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। .

 .

তবে সরেজমিন পরিদর্শনকালে এরশাদ রানার দাবি করে, ‘যে জায়গায় মাটি ফেলা হয়েছে বর্ষাকালে তা টিকবে না। তাই ওই স্থানে গার্ড নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কাছে প্রকল্পের বাকি টাকা চাওয়া হয়েছে’। .

 .

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘‎প্রকল্পের ১০ শতাংশ কাজ করে এরশাদ রানা বাকি টাকা দাবি করায় তা দেয়া হয়নি। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি’।. .

ডে-নাইট-নিউজ / কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি : 

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ